Back

Home

A+ A A-

返回

চীনা সংস্কৃতি: চীনের প্রথম কাব্য-সমগ্র ‘শি চিং’-ধ্রুপদী কাব্যগ্রন্থ

2015-12-28 17:20:57

চীনা সংস্কৃতি:  চীনের প্রথম কাব্য-সমগ্র ‘শি চিং’-ধ্রুপদী কাব্যগ্রন্থ

খ্রীষ্টপূর্ব সপ্তম শতাব্দিতে চীনের প্রথম কাব্যসমগ্র ‘ধ্রুপদী কাব্যগ্রন্থ'-এর সৃষ্টি হয়। এতে যেমন রয়েছে মহাকাব্য, কাহিনীকাব্য ব্যঙ্গকাব্য, তেমনি রয়েছে প্রেমের গান, যুদ্ধের গান, স্তুতিগান, ঋতুর গান ও শ্রমজীবীদের গান। ‘ধ্রুপদী কাব্যগ্রন্থ' কোনো এক কবির লেখা নয়। তবে তা গ্রীক কবি হোমারের বিখ্যাত মহাকাব্য ‘ইলিয়ড' এর চেয়েও কয়েকশ' বছর পুরনো।

  চীনের ইতিহাসে ‘ধ্রুপদী কাব্যগ্রন্থই' চীনের প্রথম কাব্যসমগ্র। এতে স্থান পেয়েছে চীনের পশ্চিম চৌ রাজত্বের প্রথম ভাগ থেকে বসন্ত-শরত্ রাজত্বকালের মধ্যভাগ পর্যন্ত অর্থাত্ খ্রীষ্টপূর্ব একাদশ শতাব্দী থেকে খ্রীষ্টপূর্ব সপ্তম শতাব্দী পর্যন্ত প্রায় পাঁচশ' বছরে রচিত ৩০৫টি কবিতা। ‘ধ্রুপদী কাব্যগ্রন্থ' ফেং, ইয়া ও সং এই তিনভাগে বিভক্ত। ‘ফেং' বলতে ১৫টি রাজ্যের ১৬০টি লোকসংগীতকে বোঝায়। ‘ইয়া' বলতে চৌ রাজবংশের রাজধানীর আশেপাশের এলাকার প্রচলিত ১০৫টি সংগীতকে বোঝায়। ‘সং' বলতে পূর্বপুরুষদের মহানকীর্তি ও দৈত্য-দেবতার মহাশক্তির প্রশংসা করার জন্য মন্দিরে রাজার ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পরিবেশিত ৪০টি পূজার গান ও স্তুতিগানকে বোঝায়।

  ‘ধ্রুপদী কাব্যগ্রন্থ' এর বেশিরভাগ কবিতার এক একটি শ্লোকে আছে চারটি চীনা শব্দ। বাকি কবিতার প্রতিটি শ্লোকে আছে দুই, তিন, পাঁচ, ছয়, সাত বা আটটি চীনা শব্দ। অনুপ্রাস, দ্বিবর্ণ, মিল প্রভৃতি অলঙ্করণ-কৌশল বিপুল পরিমানে ব্যবহৃত হওয়ায় ‘ধ্রুপদি কাব্যগ্রন্থে' রুপবৈচিত্র্য এবং তরঙ্গিত ধ্বনিপ্রবাহ সৃষ্টি হয়। প্রতিটি কবিতার গীতিময়তা সহজেই অনুভব করা যায়। বিষয়বস্তু বিচার করলে দেখা যায়, ‘ফেং' হচ্ছে ‘ধ্রুপদী কাব্যগ্রন্থের' সর্বশ্রেষ্ঠ অঙ্গ। ‘ফেং' এর কোনো কোনো লোকসংগীতে অতি অল্প অলংকার প্রয়োগ করা হয়, কোনো কোনো লোকসংগীতে অলংকারের ব্যবহার একেবারেই নেই। চৌ রাজত্বের এসব বিচিত্র লোকসংগীতে সাধারণ শ্রমজীবীদের প্রকৃত জীবন ফুটে উঠেছে। যেমন ‘কুয়ান সুই' , ‘পুর্বদ্বারের বাইরে গমন' কবিতা দু'টিতে তরুণতরূণীদের পবিত্র প্রেম-পিপাসা প্রতিফলিত হয়েছে। বিনা পরিশ্রমে বিলাসী জীবানযাপনকারী মালিকের সামনে দাসদের অসন্তোষ প্রকাশের চিত্র ফুটে উঠেছে ‘মেঠো ইঁদুর' ও ‘ফাতান' নামে দুটো কবিতায়। ‘ইয়াংজি নদী', ‘যুদ্ধপীড়িত মানুষ' ইত্যাদি কবিতায় যুদ্ধের করুণ দৃশ্য বর্ণিত হয়েছে।